নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলমান অপারেশন অপারেশন ডেভিল হান্টে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গত গেল ২৪ ঘন্টায় ১২ জনসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃরা বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চলমান অপারেশনে গত ৩৬ ঘন্টায় ডেভিল ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, মোকাম ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন, মহানগরীর ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জনি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম হোসেন তপন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি রনি, দেবিদ্বার উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা মো. নাবির হোসেন, মুরাদনগরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসিন আরাফাত বাবু, নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন, পৌরসভা ছাত্রলীগ নেতা ফয়েজ আহমেদসহ অন্যরা।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম (অর্থ ও প্রশাসন) জানান, গেল ২৪ ঘন্টায় চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছে সাতজন। এ নিয়ে মোট ১৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ‘অপারেশন ডেভিল হান্টে’ জীবন মিয়া (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতোহাবাদ গ্রামের মৃত. আব্দুল হামিদের ছেলে এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।
আওয়ামী লীগ নেতা জীবন মিয়া জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে কুমিল্লার দেবিদ্বারে আন্দোলন চলাকালে হামলায় আহত আবু বকরের মামলার অন্যতম আসামি।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম ও শুভ কুমার শূরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে জীবন মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করেছে।
উল্লেখ্য, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলা কালে গত ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আবু বকর (১৯) কে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে এবং পাইপ দিয়ে পিটিয়ে দেবিদ্বার কলেজ রোডের কালাচান সুপার মার্কেটের সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায়। ওই ঘটনায় ১০ নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের অধিবাসী আবু বকরের পিতা আবুল খায়ের বাদী হয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট ৭২ জনকে নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭০/৮০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার অন্যতম আসামী গ্রেপ্তারকৃত জীবন মিয়া।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর আওতায় আমরা জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার আসামিদের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা ভিডিও ও স্থির চিত্র দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেপ্তার করছি।