14.7 C
Los Angeles
জানুয়ারি ২২, ২০২০
News All Bangladesh
ক্যাম্পাস

জামালপুরের পুনর্বাসন কেন্দ্র জাককানইবি

জামালপুর পুনর্বাসন কেন্দ্র জাককানইবি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে লুটপাট ও স্বজনপ্রীতির আশ্রম হিসেবে গড়ে তুলেছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান।

উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র দু বছরের মাথায় জাককানইবি’তে তিনি গড়ে তুলেছেন জামালপুর প‍রিবার, যার সর্বাধিনায়ক হিসেবে আছেন দুইজন। এতে শিক্ষকদের মধ্যে অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক সোহেল রানা এবং  কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে উপপরিচালক মুকুল। এই দুইজন ভিসির এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময় নিয়োগের ক্ষেত্রে জামালপুরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে।

 

শুধুমাত্র জামালপুর বাড়ি বিবেচনায় গত দুই বছরে তিনটি সিন্ডিকেটে  নিয়োগ পেয়েছেন দশের অধিক শিক্ষক। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই সংখ্যা আরো অধিক। যেমন শিক্ষক হিসেবে ইইই বিভাগে শোয়েব মাহমুদ, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগে জিল্লুর রহমান পল, চারুকলা বিভাগে রাশেদুর রহমান, ফিন্যান্স বিভাগে আসলাম মাহমুদ, ইংরেজি বিভাগে মাসাদুল মান্নান, এইচআরএম বিভাগে শরিফা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগে লুৎফুন্নাহার লুৎফা ও লাইলা আক্তার জামালপুর কোঠায় শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের প্রার্থী  নিয়োগে উপাচার্যের তীব্র অনীহা থাকলেও শুধুমাত্র জামালপুর বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন ঢাবির  দুজন শিক্ষক। এদের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগে তাজ ই জান্নাত মিম ও দর্শন বিভাগে তাপসী রাবেয়া নিয়োগ পেয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এসব নিয়োগে তিনি শর্ত শিথিল সহ বহু অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগে জিল্লুর রহমান পল প্রভাষক পদে যোগদান করেন কিন্তু এক বছর না যেতেই তিনি আবার সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী যতই পিএইচডি ডিগ্রিধারী আসুক না কেন এক বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকলে সহকারি অধ্যাপক পদে আবেদন করা যায় না। এভাবেই জামালপুর বিবেচনায় শত অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন উপাচার্য মোস্তাফিজুর রহমান।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপাচার্য নিজে দুই অনুষদের ডীন পদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং একটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও রয়েছেন।

 

সংগীত বিভাগের সাথে দর্শন বিভাগের তেমন কোন মিল না থাকলেও জামালপুর বিবেচনায় সংগীত বিভাগের অধ্যাপক মুশাররাত শবনমকে দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে বসিয়েছেন। উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় দুর্নীতি ও খাতা পোড়ানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ সহ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোন শাস্তি বিধান তো দূরের কথা উল্টো তাকে ভর্তি পরীক্ষায় নিয়ম ভেঙে ভিজিলেন্স কমিটিতে রাখেন। শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক ভবনের গুরুত্বপূর্ণ পদ সমূহ অর্থ শাখার দায়িত্বে আছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিতর্কিত শিক্ষক সোহেল রানা, প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্বে আছেন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মিলন। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগে এক্সপার্ট হিসেবেও জামালপুরকে প্রাধান্য দিচ্ছেন উপাচার্য এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। আইন বিভাগ ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এক্সপার্ট হিসেবে আছেন জামালপুরের দুইজন অধ্যাপক আনিস ও অধ্যাপক জাহিদ। শুধু তাই নয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে এক্সপার্ট হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামালপুরের শিক্ষকদের গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জাককনইবি’তে গত ২৭-১২-২০১৯ তারিখ ইলেকট্রিশিয়ান নিয়োগে এক্সপার্ট হিসেবে নিয়োগ দেন  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে। উল্লেখ্য উনার বাড়িও জামালপুর জেলায়।

 

এক‌ই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিজের চাচাতো ভাই জামালপুরের শফিক সুমনকে অডিট অফিসার পদে নিয়োগদেওয়ার অভিযোগ  পাওয়া যাচ্ছে।

 

সোহেল রানা শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব ভুলে গিয়ে নানার অপকর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই  তাকে ছায়া ভিসি হিসেবেই জানেন।

এসব অনিয়ম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ JKKNIU তে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে উপাচার্য এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান তাদেরকে বহিষ্কারের হুমকি দেন।

 

এসব বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমে দাবি করেন, এসব নিয়োগ মেধার ভিক্তিতেই হচ্ছে।

 

Related posts

অনন্য সাফল্যধারা ॥ ফুটবল কন্যাদের হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়নশিপ

zoshim

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকিরের জন্মদিনে সব্যসাচীর নেতৃত্বে কেক কাটা

zoshim

বরুড়ায় ৪০তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন

Riaj uddin Rana

Leave a Comment