19.9 C
Los Angeles
জুন ১, ২০২০
News All Bangladesh
Uncategorized

ভুলিনি রাসেল==========__এম মতিউর রহমান প্রধান (শেখ রাসেল এর ৫৫তম জন্মদিনে হাসু আপার নিবেদন)

আজ তোমার বয়স বায়ান্ন ছাড়িয়ে
চুয়ান্নতে পদার্পণ করেছে,
হয়তো একদিন ঊনসত্তর পেরিয়ে
একাত্তর ছুঁয়ে যাবে!
অথচ আমরা এখনও
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির বারান্দায়,
তোমার হামাগুড়ির শব্দ শুনতে পাচ্ছি!
এখনও তোমার প্রিয় সাইকেলের কিড়িং কিড়িং শব্দে,
আমি আর রেহানা তোমার পেছনেই ছুঁটে চলেছি।

আজ আমরা ২০১৮’র ১৮ অক্টোবরে দাঁড়িয়ে,
অথচ ৬৪’র এইদিনে তোমার আগমনী কান্নার শব্দে
আজো উল্লাসিত হচ্ছি!
তোমার দুষ্টুমি আর বাল্যাপনায় মগ্ন হয়ে,
আমরা তোমার জন্মদিনের সেই কান্নার বিস্ফোরণ
একরকম ভুলেই গিয়েছিলাম!
কিন্তু অসভ্য নরপিশাচ আর হায়েনার দল
আমাদের বুক ছিঁড়ে ক্ষত-বিক্ষত করে,
ইতিহাসে জন্ম দিল এক বাকরুদ্ধকর দিন।
আমরা সেই দিনটি ভুলতে পারিনি, ভুলতে পারবো না
না…, না…, না… এবং কখনই ভুলব না!

মনে পড়ে, ৬৬’র ছয় দফায় বাবার বন্দীর পরে
মা বাবাকে মুক্ত করতে মামলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে,
কষ্টচাপা নিঃসঙ্গতাকে ঘুচাতে তোমার সঙ্গী হয়েছিল
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির একঝাঁক কবুতর।
কবুতরকে নিজ হাতে খাবার খাওয়াতে খাওয়াতে
আর খেলাধুলায় জমে ওঠেছিল মিতালীর বন্ধন,
সেই থেকে তোমাকে আর কেহ
কোনদিন কবুতরের গোশত্ খাওয়াতে পারেনি।

৬৮’র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বাবা নিরুদ্দেশ হলে,
পুরো বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া!
তখন তোমার একাকীত্বতা আরো বেড়ে গেল,
অতঃপর বাড়ির কাজের লোক এবং
কুকুর ছানা টমির সাথে তোমার দারুণ সখ্যতা।
এতকিছুর পরেও তোমার প্রিয় হাসুপা’র মমতার আঁচলে
ভালোই কাটছিল তোমার শৈশবের দিনগুলি।

কিন্তু না, ২৫শে মার্চের কালো রাত্রিতে
তোমাকেও মায়ের সাথে দেয়াল টপকিয়ে পালাতে হয়েছিল,
অতঃপর পাক পাহারায় ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে,
এই ছোট্ট বয়সেই তোমাকে নয় মাস কারাবন্দী জীবন
গুনে গুনে পার করতে হয়েছে।
অবশ্য ৭১’এ তোমার ভাগিনা জয়ের আগমনে,
নিঃসঙ্গতার মাঝে নতুন বন্ধু পাওয়ার অনাবিল আনন্দে
তোমার ম্লান মুখে কিয়দ আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে!

৭১’এ বাবা জেলে, কামাল যুদ্ধে আর মা নিস্তব্দ শোকে….
এতটা ঝড়-ঝাপটার মাঝেও তুমি ছিলে অবিচল,
অথচ তোমার চলার পথকে রুদ্ধ করলো
তোমারই বুক থেকে বাবার আদর চিনিয়ে নেয়া
পরম সুখের সময়গুলোর বিনিময়ে কেনা
বাংলা মায়ের রক্তখেকো পিশাচের দল!
সেদিন তোমার মৃত্যুতে একমাত্র প্রতিবাদ করেছিল
রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নেয়া তোমার আশ্রিত পোষা বিড়াল!
জানো, সেদিনি বিড়ালটি তোমার নিথর দেহের চারপাশ ঘিরে
বিকট মিউ মিউ শব্দ করে প্রতিবাদ মিছিল করেছিল,
আর এ অপরাধে সেদিন নরপশুরা তাকেও বাঁচতে দেয়নি!

মনে আছে, তোমার? তোমার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে,
আমি জার্মানে যাওয়ার সময়ে…..
তোমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমার নিয়তির জন্ডিস ব্যাধি তোমাকে যেতে দেয়নি!
অবশ্যই জন্ডিস কিংবা নিঃসঙ্গতার যাতনা
কোনটাই তোমাকে পরাস্ত করতে পারেনি,
অথচ আমার এই দুরন্তপনা রাসেলকে পরাস্ত করেছিল…
আমারি বাংলার রক্তচুষে বড় হওয়া একঝাঁক হায়েনার দল।

হয়তো তুমি আর কোনদিন ‘হাসুপা’ ‘হাসুপা’ বলে
জড়িয়ে ধরবে না তোমার হাসুপা’র আঁচল,
কারণ এখন প্রিয় বাবা আমাদের সব্বাইকে ভুলে
একমাত্র তোমাকেই ঝাপটে ধরে,
আগলিয়ে শুয়ে আছেন প্রিয় টুঙ্গিপাড়া গাঁয়ে।
হয়তোবা বাবার ধূসর চাদরে জড়ানো আদরেই
তুমি আমাদের সবাইকে একরকম ভুলতেই বসেছো!
রাসেল, প্রিয় লক্ষ্মী ভাই আমার!
তোমার হাসুপা’র এখন অনেক বয়স হয়েছে,
ভাবতে ভাবতে চোখের কোণে কালি জমেছে!
কপালের ভাঁজে ভাঁজে ক্রমেই গাঢ়তর হচ্ছে..
স্বজনের দেহকে ক্ষত-বিক্ষত করা বুলেটের আঘাত!

বাবার মুখে বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শন শুনে শুনে
বঙ্গমাতা তোমার নাম রেখেছিলেন ‘রাসেল’।
বেঁচে থাকলে হয়তো তুমি অনেককেই ছাড়িয়ে যেতে,
কিন্তু তোমার অকাল প্রয়াণে তুমি চিরশিশু হিসেবেই
১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ে আজো অম্লান হয়ে আছো।

জানি এভাবেই একদিন কালের বিবর্তনে
তুমি একাত্তর ছাড়িয়ে পঁচাত্তর পেরিয়ে যাবে,
তুমি পঁচাত্তরের কালো অধ্যায় পেরিয়ে গেলেও
বাংলার আকাশে আগস্টের ঘনঘটা কোনদিনও কাটবে না।

এতদ্বসত্ত্বেও আমার ইস্পাত সমেত দৃঢ় বিশ্বাস,
আমার রাসেল সকল বিষন্নতাকে ঠেলে আমায় বলবে,
“হাসুপা, আমি তোমার সেই ছোট্ট রাসেল!
দেখো, এ সবুজ বাংলার পতাকার মাঝে…
আমি এখনও সমধিক উজ্জ্বল!
মাত্র ‘দশ বছর, নয় মাস, সাতাইশ দিন’ এর জীবনীতেই
উজ্জীবিত হয়েছে আমার অমরত্বের ইতিহাস”।

________________________________________
((উৎসর্গঃ
হাসু আপার পক্ষ হতে আমাদের প্রিয় ছোট্ট শেখ রাসেলকে!))

Related posts

নবীনগরের রসুল্লাবাদে ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবরের বিরোদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ

Riaj uddin Rana

শ্রীপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

Riaj uddin Rana

চটপটি খেয়ে ২৬ স্কুল ছাত্রী অসুস্থ, ২জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

Riaj uddin Rana

Leave a Comment