12.7 C
Los Angeles
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
News All Bangladesh
জনমত জরিপ জাতীয় জেলার খবর নির্বাচিত বিশেষ প্রতিবেদন মতামত ময়মনসিংহ বিভাগ মহানগর রাজনীতি

ময়মনসিংহে ‘মাইনাস ফর্মুলার’ রাজনীতি ॥ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে অসম্মানের প্রবণতায় ক্ষোভ

বিশ্লেষণ ॥ আশিক চৌধুরী ॥
দুঃসংবাদ। ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগ ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে নিয়ে ‘মাইনাস ফর্মূলা’ রাজনীতি করছে। এতে সংক্ষুব্ধ ও হতাশবিদ্ধ ময়মনসিংহ। তৃণমূলের নেতা-কর্মী সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনমনে এ নিয়ে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত হয়েছে।
সবশেষে ১১ ফেব্রুয়ারি (আজ) ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কর্মীসভাকে কেন্দ্র করেও মাইনাস ফর্মূলার রাজনীতি দেখা গেছে। ময়মনসিংহে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাংগঠনিক সফরকে ঘিরে বিরাট কর্মীসভা। অথচ জেলা আওয়ামী লীগ সুকৌশলে ময়মনসিংহের মাটিতেই ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের নেতাকে মাইনাসের চেষ্টা করে। পোস্টার, কার্ড, বিজ্ঞাপনসহ প্রচারনায় তার নাম সচেতন ভাবে বাদ দেয় জেলা নেতৃত্ব। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে পরে আরেকটি পোস্টার ছেপে সেখানে বিশেষ অতিথি হিসাবে তার নাম ছাপা হয়।
যদিও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জেলা সদরে দলীয় অফিসের সামনে লোক দেখানো ছিটে ফোটা দুয়েকটি পোষ্টার দেয়া হলেও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত আগের পোষ্টারই রয়েছে। প্রচার-প্রচারনায় ধর্মমন্ত্রীর নাম না থাকায় জেলা ব্যাপী জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ময়মনসিংহের জন্য গঠিত টিমে রয়েছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের গর্ব, সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার এই প্রভাবশালী সদস্য ময়মনসিংহের কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হয়ে আসছেন।
অথচ এখানে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান (যাকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভার সদস্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী) থাকতে পারবেন না সেই ষড়যন্ত্রই করা হয়েছিল যার প্রমান ওই বহুল প্রচারিত প্রথম পোষ্টারিং। বিক্ষুব্ধ, নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, এ মাধ্যমেই ময়মনসিংহে দলীয় ঐক্য বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের নগ্ন বহি: প্রকাশ ঘটেছে। বিভাজনের রাজনীতির চলমান খেলা আবার প্রমানিত হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধুতনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঐক্যের জন্য কমিটির জেলা নেতৃত্ব জেলা আওয়ামী লীগের ঐক্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির নেশায় মশগুল। বর্ষীয়ান জননেতা ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের অস্তিত্বকে অস্বীকার ও মুছে ফেরার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ এটি কোন রাজনীতি। কিসের দ্বন্দ্ব, কিসের প্রতিহিংসা। কিসের ভয়। এর রহস্য কোথায়? ময়মনসিংহের রাজনীতির প্রাণপুরুষ, জীবন্ত কিংবদন্তি রাজনীতিই যার জীবন, ৭৬ বছরের বর্ষীয়ান জননেতা যার জীবনের ৫৮ বছর আওয়ামী লীগময় সেই জীবিত মতিউর রহমানকে মৃত করতে তাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যার রাজনীতি চালানো হচ্ছে। যা বিষ্ময়কর এবং দুঃখ জনক। ময়মনসিংহের মানুষ তা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
নির্বাচনের বছরে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন দলীয় ঐক্যে, সমঝোতার সময়। তখন সেই লক্ষ্যে আয়োজিত ময়মনসিংহের কর্মীসভায়, যেখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের একযুগের সফল সাবেক সভাপতি ৫৮ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পথচলা নেতার সম্মানজনক অংশগ্রহনের আমন্ত্রন জানানোর ক্ষেত্রেও বিরুদ্ধবাদী অবস্থান নেয়ার নজির দেখা গেছে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এই কান্ডে মর্মাহত ও হতবাক হয়েছেন ধর্মমন্ত্রীর সংখ্যাতীত অনুসারীরা। শুধু দলীয় লোকজন নয়, সর্বস্তরের মানুষজনের কাছেই এটি গ্রহনযোগ্য হয়নি। ফলে এ নিয়ে জেলা ব্যাপী চলছে আলোচনা সমালোচনা, গুঞ্জন।
বির্তর্কিত এই কর্মকান্ডের জন্য জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এনিয়ে কড়া সমালোচনা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
শুধু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন, ধৈর্য ধারন করছেন; চিন্তা করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যারা অতিথি হয়ে ময়মনসিংহে আসছেন তাদের সম্মান ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি। অন্যথায় অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের অসম্মানের জবাবে পরিস্থিতি বিস্ফোরণম্মুখ হয়ে যেতো বলে আশংকার কথা জানালেন অনেকেই।
বিষয়টি স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের এক মতবিনিময় বৈঠকে আবেগ পরিস্থিতিতে অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কিন্তু আদর্শের রাজনীতির প্রিন্সিপালের অনুসারীরা নিজেকে সংযত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তারা বিষয়টি বিচার বিবেচনার ভার দলীয় হাই কমান্ডের উপর ছেড়ে দিয়েছেন।
বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, কর্মীসভার পোস্টারে ধর্মমন্ত্রীর নাম না থাকায় তারা বিস্মিত ও হতাশ। এটি জেলার রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্যের জন্য অশনি সংকেত।
বঙ্গবন্ধুর ¯েœহের মতিমালা, বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের মুরুব্বী। ময়মনসিংহের অবিসংবাদিত এই রাজনীতিবিদ এর বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনেও অতীতের মতো নৌকার জয়ের ধারার জন্য ময়মনসিংহে তিনিই ফ্যাক্টর।
অথচ, যে সংগঠনে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে থেকে ৫৮ বছর ধরে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগকে বিকশিত সুসংগঠিত ও শক্তিশালী দূর্গে পরিণত করেছেন, সেই সংগঠনেরই তার উত্তরসূরী নেতৃত্ব তাকে রাজনৈতিক ভাবে অবজ্ঞা করার পায়তারা চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের সমর্থক নৌকার ভোটাররা মনে করেন, মতিউর রহমানকে অপমানিত ও অসস্মানিত করা মানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অসম্মাণ করা, আওয়ামী লীগকে বিব্রত করা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করা। যেখানে ধর্মমন্ত্রীর এক কথা ‘মহান নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা আমরা ময়মনসিংহ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে প্রস্তুত’। সেখানে জীবদ্দশায় তাকে পড়ন্ত বয়সে অসম্মান করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির এই অগ্নিপরীক্ষিত নেতার আর পরীক্ষা দেবার কিছু নেই। তিনিই জেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক। দলের দু’দিন দুঃসময়ের কান্ডারী। ত্যাগ তিতিক্ষা, জেল জুলুম, হুলিয়ার ভেতরে দিয়ে তিনি আদর্শের পতাকা উড়িয়ে রেখেছেন।
এখন তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদ পদবীতে না থাকলেও চট্টগ্রামের মহিউদ্দিনের মতো তিনিও ময়মনসিংহের মতিউর রহমান। সারা বাংলাদেশে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ বললেই মানুষ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে চিনে। আর তাকে মনে থাকে না তারই উত্তর সূরী জেলা নেতৃত্বের। যারা তার নেতৃত্বেই রাজনীতি করে আজকের অবস্থানে এসেছেন।
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরে ৪ জনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি নেত্রীর সিদ্ধান্ত। করুনা। নেত্রী তার মন্ত্রীসভায় অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে মন্ত্রিত্বের আসনে দিয়ে ময়মনসিংহকেই সম্মানিত করেছেন। আর অধ্যক্ষ মতিউর রহমান তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী হয়ে জেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আজকে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া পাহাড়কে কোদাল দিয়ে কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু অধ্যক্ষ মতিউর রহমান নয়। জেলা আওয়ামী লীগের পোষ্টারে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের ইতিহাসের আরেক নক্ষত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন ভ’ইয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামকেও ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম বলে প্রচারপত্রে লিখে জেলা আওয়ামী লীগ। ফেসবুকে যে ভুল ধরে দেয় একজন তরুণ। পরে তা সংশোধন করা হয়। প্রশ্ন কেন এই বিস্মরণ।

Related posts

কুমিল্লায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দু’জন খুন

Riaj uddin Rana

লিফটে আটকা পড়া বিএফসিসি শিক্ষার্থী কে উদ্ধার করলো উত্তরা ফায়ার সার্ভিস

zoshim

১৪ নং ওয়ার্ড মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের নয়া নেতৃত্ব

zoshim

Leave a Comment