19.9 C
Los Angeles
জুন ১, ২০২০
News All Bangladesh
বিচিত্র সংবাদ বিনোদন বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বের কিছু আজব জাদুঘর

জাদুঘর বলতে আমরা বুঝি সংগ্রহালয়। যেখানে বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তুসমূহ সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করা হয়। সেগুলো ডিসপ্লে কেসের মধ্যে রেখে স্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে জনসাধারণের সমক্ষে প্রদর্শিত করা হয়। বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তুসমূহ সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করা হয়।

কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও সমাবেশ করে জাদুঘরের নামে এমন স্থাপনা অনেকে তৈরি করে গেছেন, যার কোনোটি চিত্তাকর্ষক আবার কোনোটি কাণ্ডজ্ঞানহীন এবং উদ্ভট। চলুন জেনে নিই- বিশ্বের এমন কয়েকটি জাদুঘর সম্পর্কে।

১. মিউজিয়াম অব অ্যাট (এলিয়েন): এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে অন্যান্য গ্রহের যে সমস্ত প্রাণী বা এলিয়েন বাস করছে তাদের প্রতি আনুগত্য স্বীকার এবং শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই মিউজিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই মিউজিয়ামে অন্য গ্রহের প্রাণীদের জীবনদর্শন ও জীবনচরিত নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা ছাড়াও অত্যন্ত কারুকর্মের সাহায্যে মিউজিয়ামকে এমনভাবে মিথষ্ক্রিয় করে তোলা হয়েছে যাতে আমাদের সৌরমণ্ডল ঘিরে এলিয়েনদের অস্তিত্ব আছে সেই বিষয়ে দর্শনার্থীরা বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে।

২. দ্য মিউজিয়াম অব মনস্ত্রুশ ক্রিয়েচার: এটি সরীসৃপ গোত্রের প্রাণীদের জাদুঘর। এই জাদুঘরে একাধিক অদ্ভুত ও বিরল সরীসৃপ প্রজাতির দেহাবশেষ ও ফসিল সংগৃহীত আছে। মধ্যযুগে নির্যাতন করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জামের জাদুঘর প্রতি বছর রিপাবলিক চেকোস্লাভাকিয়ার রাজধানী প্রাগের এই জাদুঘরটিতে ঘিরে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। যে যন্ত্রপাতির সাহায্যে মধ্যযুগে বন্দিদের অমানবিক ও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হতো এ রকম এক ডজনের অধিক সাজসরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে এই জাদুঘরে। এখানে সংগ্রহকৃত সাজসরঞ্জামের মধ্যে এমন কতগুলো যন্ত্রণাদায়ক উপকরণ রয়েছে যা দ্বারা নির্যাতন করে ধীরগতিতে ভিকটিমের প্রাণসংহার করা হতো।

৩. প্যারাসাইট মিউজিয়াম: পৃথিবীর একমাত্র পরজীবী মিউজিয়ামটি জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত। এই মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা একজন জাপানি নাগরিক, নাম সাতোরু কেমেগী। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। তিনি দীর্ঘদিন মানব ও অন্যান্য প্রাণী দেহে বসবাসকারী পরাশ্রয়ী সংগ্রহ এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণা করার পর তার গবেষণালব্ধ তথ্য ও সংগৃহীত পরজীবী প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মিউজিয়ামের শোকেসে কমপক্ষে ৩০০ প্রজাতির প্রাণীর দেহে বসবাসকারী প্রায় ৪৫ হাজার অদ্ভুত পরাশ্রয়ী দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া এখানে হাজারের ওপর পরজীবী নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রামাণ্য দলিলপত্র বই আকারে সংরক্ষণ করা আছে।

৪. আন্তর্জাতিক প্রসাধন ও শৌচাগার মিউজিয়াম: এই অদ্ভুত মিউজিয়ামটির প্রতিষ্ঠাতা ভারতের নাগরিক বিন্দেশ্বর পাথক এবং এটি দিল্লি শহরে অবস্থিত। এই মিউজিয়ামে শুধু প্রসাধন ও শৌচাগারে ব্যবহৃত সামগ্রী দর্শনাথীদের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০৫ সাল থেকে প্রসাধন ও শৌচাগার এর জন্য ব্যবহৃত সামগ্রীর ছবি এবং মডেল এই মিউজিয়ামে সংগৃহীত আছে। হাইজেনিক ও স্যানিটেশন সমস্যায় জর্জরিত জনগণের সমস্যা দূরীকরণ এবং এসব বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনা বৃদ্ধি করাই এই মিউজিয়ামের মূল উদ্দেশ্য।

৫. সকস মিউজিয়াম: পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মোজার মিউজিয়ামটি জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত। এখানে ছোট বড় ২০ হাজারের বেশি নানা রকমের মোজা অতিথিদের দর্শনের জন্য সাজানো আছে। এই মিউজিয়ামের সবচেয়ে বড় মোজাটির আকার (গোড়ালি থেকে পায়ের অগ্রভাগ পর্যন্ত) ৩২ সেন্টিমিটার যা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মোজা বলে বিবেচিত। বস্ত্রশিল্প অনুরাগীদের জন্য এই মিউজিয়ামটি বেশ আকর্ষণীয়।

৬. মিউজিয়াম অব পেনিস: উত্তর আয়ারল্যান্ডের হুসাভিক নামক একটি ছোট শহরে এই জাদুঘরটি অবস্থিত। এই আজব জাদুঘরটিতে সে দেশের স্তন্যপায়ী জীবের শিশ্ন সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এই জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সেই দেশের একজন ইতিহাসের অধ্যাপক। ১৯৭৪ সালে তিনি এই আজব জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে মানুষের জননেন্দ্রিয় ব্যতীত বিভিন্ন স্তন্যপায়ী জীবের ২৪৫টি শিশ্ন দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে।

৭. ডেভিল মিউজিয়াম: এই ডেভিল মিউজিয়াম অর্থাৎ শয়তানের জাদুঘরটি লিথুয়ানিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাশ এ অবস্থিত। এই জাদুঘরে এমন সব ভৌতিক ভাস্কর্য ও ছবি রয়েছে যা দর্শকদের অতীতে দেখা কোনও ভয়াল দুঃস্বপ্ন ও আতঙ্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।

৮. গার্বেজ মিউজিয়াম: এই অদ্ভূত জাদুঘরে বোস্টনের সুখ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিদের আবর্জনা-ময়লা সংগ্রহ করে তা প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। কৌতুক করার জন্য হোক বা অত্যধিক শ্রদ্ধা বা আদর দেখানোর জন্যই হোক সেলিব্রেটিদের ময়লা, আবর্জনা রাস্তার ডাস্টবিন থেকে তুলে দর্শকদের দেখানোর উদ্দেশ্যে এই মিউজিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে।

৯. সেক্সচুয়াল মিউজিয়াম: হল্যান্ডে অবস্থিত ভেনাস টেম্পল বা রতিদেবীর মন্দির নামের এই জাদুঘরটি ইউরোপের সর্বপ্রথম এবং প্রাচীন সেক্স জাদুঘর। এই জাদুঘরের শোকেসে সাজানো রয়েছে আঠারো শতকের কামজ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্করণ, তৈলচিত্র, পূর্ণায়ত ভাস্কর্য। এ ছাড়া ঊনবিংশ শতাব্দীর কামজ বিষয়ক বই, ছবি, পোস্টকার্ড, ভারতীয়দের অনুকরণে তৈরি ভাস্কর্য ইত্যাদি এরোটিক সামগ্রীর সমাহারে ইউরোপীয়দের পূর্বপুরুষদের যৌনজীবন এবং যৌন-সংস্কৃতি বাস্তবরূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই জাদুঘরে। প্রতিবছরে ৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগমে আমস্টারডামের অন্যান্য জাদুঘরের ন্যায় এই সেক্স জাদুঘরটিও দিনে দিনে খ্যাতিলাভ করছে।

Related posts

ঘরোয়া উপাদানে চুল কালো করার উপায়

Riaj uddin Rana

বোররচর ইউনিয়ন যুবলীগ নির্বাচন ৩১ জানুয়ারি- জেলা আহবায়ক এড. আজহারুল ইসলাম

zoshim

স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন তোমাদের কাছে ঠাই না পায়-মিন্টু কলেজে মোহিত উর রহমান শান্ত

zoshim

Leave a Comment